“ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার” নির্যাতিত মহিলা ও শিশুদের বিভিন্ন নির্যাতন ও সহিংসতায় অন্যতম ভরসা !!!

“ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার” কি? অনেকেই আমরা এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানিনা অথচ সবার জানা জরুরী, কারন বর্তমানে নারী ও শিশু সহিংসতা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে, কিন্তু কোথায় গেলে এ বিষয়ে সাহায্য পাওয়া যাবে, আইনি সহায়টা পাওয়া যাবে, চিকিৎসা পাওয়া যাবে তা জানলে নির্যাতিতার জন্য অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।

child-abuse

নারী নির্যাতন বা সহিংসতা বন্ধের একটি পদক্ষেপ হিসেবে এটি ২০০১ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ এর আওতায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে “ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার” চালু হয় যা সংক্ষেপে ওসিসি বলা হয়। এরপর একে একে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসিসি কার্যক্রম শুরু করে। এই মোট আটটি ওসিসি নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের এক ছাতার তলে বিনা মূল্য সেবা দিচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তির পর বিভিন্ন প্রটোকল মেনে ওসিসিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের সেবা নেওয়া যায়। স্বাস্থ্য সেবা, আইনি সেবা, পুলিশি সহায়তা, সমাজে পূর্ণবাসন, কাউন্সেলিং সহ আরও বিভিন্ন ধরনের সেবা। আর এখানকার সবচেয়ে ভালো দিকটি হচ্ছে বিভিন্ন সেবার সাথে এখানে নির্যাতিতার নিরাপত্তা বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই যারা এখানে সেবা নিতে যায় তাদের পরিচয় থেকে শুরু করে সব কিছু গোপন রাখা হয়। সেই সাথে রোগীর আত্মীয় ছাড়া কেউই ওসিসিতে ঢুকতে পারেনা। এমনকি সাংবাদিক বা অন্য পরিচয়ে ও কেউ ঢুকতে পারবে না।

যারা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতি পত্র দেখাতে পারবে তারাই শুধু সেখানে যেতে পারবে। আর এই অনুমতি পত্র নিয়েও শুধু অফিস কক্ষ পর্যন্ত যাওয়া যাবে। যারা সেবা নিতে যান তাদের কাছে যাওয়া যাবেনা। এমনকি টেলিফোনে ও সেবা নেওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে কোন তথ্য মিলবেনা।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রকল্পের পরিসংখান অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরে (চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত) নির্যাতনের শিকার ২৩হাজার ২৮১ জন নারী ও শিশু এসব কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সেবা নিয়েছেন। মামলা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৩ টি। বিচার শেষ হয়েছে ৮৫৪ টি, আর শাস্তি দেয়া হয়েছে ১০৫ জনকে।

ঢাকার “ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার” –

সারা দেশে আটটি কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার ও সি সি তে সেবা নিতে আসা নারী ও শিশুদের আইনি সেবা পাওয়ার চিত্র অন্যগুলোর তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। এখানে আট টি শয্যা আছে। মাসে এখান থেকে গড়ে ৫০ জন করে সেবা নিতে আসে। এছাড়াও যাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু অন্যান্য সেবার দরকার যেমনঃ কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা সহ বিভিন্ন সহায়তার দরকার তাদের জন্য আউটডোর সেবার বেবস্থা আছে। সেখান থেকেও ৬০ থেকে ৭০ জন সেবা নিয়ে থাকেন।

দুই জন সেবা প্রাপ্তের কথা – 

গত মে মাসে ঢাকায় এক গারো তরুণী ধর্ষণের শিকার হলে সেটা নিয়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই তরুণী এই সেন্টার থেকে সেবা নেন। এখন তিনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে অনেক ভালো আছেন। ঘটনার পর গণমাধ্যমের চাপ, ডিএনএ টেস্ট সহ নানান পরীক্ষা, আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রায় সবকিছু ওসিসি সামাল দিয়েছে।

আরেক সেবা প্রাপ্ত রুবিনা আহম্মেদ। তিনি যৌতুকের কারনে স্বামীর হাতে চরম নির্যাতিত হয়ে ওসিসি তে ২০০৬ সালে সেবা নেন। রুবিনা বলেন এখান থেকে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন। ওসিসি না থাকলে তিনি কখনই আইনি লড়াই লরতে পারতেন না। সবকিছু বিনামূল্যে পেয়েছেন, স্বামীকে আইনি লড়াইয়ে সাজা দিয়েছেন। ওসিসি থেকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয় যা দিয়ে তিনি তাঁর জীবন চালাচ্চেন। ওসিসির সাথে রুবিনার সম্পর্ক এখনো আছে। ওসিসির যেকোনো অনুষ্ঠান, মিটিঙে তিনি ডাক পান।   

আরো পোস্ট দেখুন

comments