মন খারাপ ? মন ভালো করুন সহজেই, কয়েকটি টিপস !!!

বন্ধুর সাথে তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়া তারপর মন খারাপ, অথবা বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছে ধোঁকা পাওয়া বা স্বামীর প্রতিবারের মতো ম্যারেজ ডে ভুলে যাওয়া অথবা অফিসে ভীষণ চাপ এরকম হাজার টুকরো ঘটনার জোরে কতবার যে মন খারাপ হয়ে যায় তাঁর কোন ঠিকানা নেই। আর মাঝে মাঝে তো শুধু শুধুই কেন জানি মনটা উদাস হয়ে যায়। আসুন মন খারাপ করে বসে না থেকে জেনে নিন চটপট মন ভালো করার কয়েকটি সহজ উপায়।




নেতিবাচক চিন্তা দূর করে দিন

আমাদের চারপাশে যে সব ঘটনা ঘটছে তাঁর সব কিছুই যে সবসময় আমাদের নিজের মতো করে হবে তাঁর কোন মানে নেই। কিন্তু তারপরও যখনি কোন নেতিবাচক ঘত্না ঘটে আমরা সেই ঘটনা বার বার চিন্তা করে যাই । এই নেগেটিভ থট প্যাটার্ন একটি নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি মনের মধ্য গেথে দেয়। যা থেকে আস্তে  আস্তে মনের ভিতর ডিপ্রেশন বাসা বাঁধে। এই জন্য যখনি এ ধরনের কিছু ঘটবে আপনি শুধুমাত্র ৫ মিনিট সময় বের করে সেথা লিখে ফেলুন। এরপর লেখা হয়ে গেলে দেখবেন আপনার রাগ বা কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে। এরপর লেখাটি কয়েকবার পড়ুন। দেখুন নিজের কোন দোষ আছে কিনা। অন্য দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে দেখুন, হয়তো নতুন কিছু জানতে পারবেন। শুনতে অদ্ভুদ লাগলেও এই পুরো প্রসেস কিন্তু আপনার মনকে হালকা করে দেবে। ট্রাই করুন না !

মন খারাপ

মিউজিক সঙ্গে রাখুনঃ

মন খারাপ, স্ট্রেস ইত্যাদি কাটানর জন্য সারা বিশ্বের মানুষ এই মিউজিকের উপর নির্ভরশীল। এটি পরিক্ষিত যে সংগীত টেনশন কমিয়ে মনকে শান্ত করে দেয়। আর তাই যখনি লক্ষ করবেন রাগ বা টেনশন মাত্রা ছাড়া হয়ে যাচ্ছে তখনি মিউজিকের সাহায্য নিন। নিজের সাথে পছন্দের গানগুলো রাখুন। মোবাইলে আপনার পছন্দের গানগুলো মেমোরি কার্ডে লোড করে রাখুন। মন খারাপ হলেই মিনিট দশেক গান শুনুন আর মন ভালো করুন। চেষ্টা করুন চিয়ার আপ টাইপের গান শুনতে। তবে কি ধরনের গান শুনবেন তা তা সম্পূর্ণ আপনার নিজের উপর নির্ভর করবে।

ব্যায়াম করুনঃ

ব্যায়াম করলে মন মেজাজ ভালো থাকে এর ফলে মস্তিস্কে এন্ডোরফিন নামক হরমোনের নি:সরণ ঘটায়। এরকম নি:সরণ আমাদের মনে ভাললাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই ব্যায়াম  করলে মন অনেক বেশি সংগঠিত থাকে এবং সহজে কোন কিচুর উপর মন নিবেশ করা যায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম  করেন তারা সহজে রাগেন না এবং অনেক শান্ত থাকেন। আর তাই স্ট্রেস ও সহজে কমে যায়।

প্রাণায়াম করুনঃ

সবকিছু একঘেয়ে লাগছে? মনে হচ্ছে জীবনের কোন মানে নেই? বিশেষ কোন কারন ছাড়া ডিপ্রেশনে ভোগা বর্তমান আধুনিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা, অফিসের টেনশন – সব কিছু নিয়ে আমরা অনেক সময় মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে থাকি। এই বিরক্তি কাটাতে প্রাণায়াম অনেক উপকার করে। প্রাণায়াম শুরু করার আগে কোন অভিজ্ঞ ট্রেনারের সাহায্য নিন। এর ফলে প্রাণায়াম এর সঠিক উপায় তাড়াতাড়ি আয়ত্তে আনতে পারবেন। সকাল বেলার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের প্রাণায়াম আপনাকে সারাদিনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে উৎফুল্ল করে রাখতে সাহায্য করবে।

প্রিয়জন বা কোন বন্ধুকে ফোনঃ

বন্ধু বা কোন প্রিয়জনকে ফোন করুন ভালো লাগবে। যাদের ইন্টারনেটে ভয়েচ সুবিধা আছে ভয়েচ চ্যাটের সাহায্য নিন। এতে সময় ও কাটবে, মনের অনুভুতিগুলি সহজে উজার করে দিতে সুবিধা হবে।

হাটতে পারেনঃ

মন খারাপ হলে সুযোগ থাকলে রাস্তায় হেঁটে আসুন। এমন কোন জায়গায় কিছু সময়ের জন্য যান যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে। হাঁটলে শরীর-মন দুই ভালো থাকে এটা সবাই জানে। তাই ব্যায়াম এর পাশাপাশি হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

প্রিয় কোন খাবার খেতে পারেনঃ

খাবারের সাথে মনের সম্পর্কের কথা সবাই জানে। সুস্বাদু খাবার যেমন মুহুর্তের মধ্য মন ভালো করতে পারে তেমনি বিস্বাদ খাবার মুড অফ করে দেয়। আর তাই প্রিয় কোন খাবার চট করে বানিয়ে নিন বা কোন রেস্টুরেন্টে চলে যান পছন্দের কোন ফুড খেতে। সেই সাথে যদি কোন বন্ধু পাশে থাকে দেখবেন মন ভালো হতে সময় লাগবেনা।

আজ এই পর্যন্ত, ভালো থাকুন।

আরো পোস্ট দেখুন

comments