পাসের হার ৬৯.৬০, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪২৮৯৪ জন

প্রতীক্ষার অবসান শেষে প্রায় ১১ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬৯.৬০ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৭৫.৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার শতকরা ৬ শতাংশ কমেছে। মেধা নির্ধারণের মাপকাঠি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৭৮৯ জন। ফলে গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ১৪ হাজার ৮৯৫ জন।

রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপরই তিনি ফলাফলের সংক্ষিপ্তসার ঘোষণা করেন। এ সময় তার সঙ্গে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত আছেন।

দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করবেন। এরপর থেকেই কলেজের নোটিশ বোর্ড, শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল পাওয়া যাবে।

অনলাইনে ফল পেতে www.educationboard.gov.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে। মোবাইলে এসএমএসে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2015 লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে।

মাদরাসা বোর্ডের আলিমের ক্ষেত্রে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2015 লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। আর এইচএসসি ভোকেশনালের জন্য HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2015 লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা অবরোধের মধ্যে গত ১ এপ্রিল শুরু হয় উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। ১১ জুন পর্যন্ত চলে লিখিত পরীক্ষা। ১৩ থেকে ২২ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। সে হিসেবে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৯তম দিনে ফলাফল প্রকাশ করা হলো।

২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৪ জন। ৮৩০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা সারাদেশের ২ হাজার ৪১৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া বিদেশে ৭টি কেন্দ্র থেকে ২৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

এবার বাংলা প্রথম পত্র, রসায়ন, পৌরনীতি, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা, সমাজ বিজ্ঞান এবং কম্পিউটার শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রসহ মোট ২৫টি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সৃজনশীল প্রশ্নে।

এদিকে, বিগত কয়েক বছরের রীতি ভেঙে এবার সব বোর্ডের সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেরা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘নোংরা’ প্রতিযোগিতার কারণে এ রীতি ভাঙছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

বাংলামেইল২৪ডটকম/ ডিএন/ এনএফ/ ইউএস

আরো পোস্ট দেখুন

comments