আপনার সৌন্দর্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে যে ১২টি খাবার

সত্যিকার ভাবে শরীর ও ত্বকের বয়স কমিয়ে দেয়ার কোন ম্যাজিক আসলে নেই। কিন্তু কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা স্থায়ীভাবে তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম। প্রতিটি মানুষেরই ইচ্ছে থাকে যে কোন মূল্যে বয়স কমিয়ে তরুণ থাকতে। আর এই লক্ষ্য যদি সামান্য কিছু খাবারের মাধ্যমেই পূরণ হয় তাহলে এরচেয়ে আর ভালো কি হতে পারে। তবে এটা জানা জরুরি যে তারুণ্য ধরে রাখার জন্য শুধু মাত্র শরীর ও ত্বক দেখতে তরুণ দেখালেই হবে না বরং শরীরের আভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গও তরুণ থাকতে হবে এবং সেটা তখনই সম্ভব যখন সঠিক খাবার গ্রহন করা হবে।

শরীরের সঠিক তারুণ্য ধরে রাখতে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো প্রচুর পানি পান করতে হবে। এই পানির মাধ্যমেই শরীরের আভ্যন্তরীণ সমস্ত অস্বস্থিকর অবস্থা দূর করা সম্ভব। এটি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং শরীরের স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পানি হচ্ছে আল্লাহ্‌র রহমতপূর্ণ একটি পানীয় যার রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে প্রথমেই পানি দিয়ে শুরু করতে হবে।

sourcetune_eat-for-beauty

তারপর আপনাদের জানাচ্ছি যে খাবার গুলো তারুণ্য ধরে রাখে তার তালিকাটি

গ্রিন টি বা সবুজ চা
তারুণ্য ধরে রাখতে বহুল প্রশংসিত একটি পানীয় হচ্ছে ভেষজ সবুজ চা। সবুজ চায়ে রয়েছে একাধিক পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ভাঁজহীন ত্বক এবং আভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো
এই ফলটি যদিও আমাদের দেশীয় ফল নয় কিন্তু আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে তারুণ্য ধরে রাখার একটি খাবার। উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলটি শুধু ত্বক ও শরীরকেই রক্ষা করে না বরং এটি মৃত ও ভগ্ন কোষকে পুনর্গঠনে সহায়তা করে। তাছাড়া এটি ত্বককে সবসময় সতেজ দেখানোর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

ডার্ক চকলেট
কোকো প্রোটিন ও ভিটামিন বি সমৃদ্ধ অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি উৎসও যা চুলের গুনগত মান ভালো করে। এছাড়া এটি শরীরের বাড়তি চর্বি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে।

গাজর
গাজর অকালে বলিরেখা পরা থেকে রক্ষা করে। এটা ভিটামিন এ এর ভালো উৎস যা কোষের যেকোনো ক্ষতি, ত্বকের কালো দাগ ও অস্বাভাবিক রঙ ইত্যাদি সমস্যা সারিয়ে তোলে। নিয়মিত গাজর খেলে তা ত্বককে উজ্জ্বল ও তারুণ্যদীপ্ত করে তোলে। এছাড়া এটি চোখের আশেপাশের ত্বকের রক্ত প্রবাহ ঠিক রাখে।

আপেল
কথায় আছে দিনে একটি আপেল ডাক্তার থেকে দূরে রাখে এবং সেই সাথে বার্ধক্য থেকেও দূরে রাখে। আপেলে থাকা পলিফেনল ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে যা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করা ও অকাল বার্ধক্যের জন্য দায়ী। এছাড়া আপেলে রয়েছে উচ্চ আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

ব্লুবেরি
উচ্চ ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ব্লুবেরি শরীরে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ত্বকের ফোলা ভাব কমায়।

লাল আঙ্গুর
এই ফলটি শরীরকে স্বাস্থ্যবান রাখতে এবং বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে চমৎকার কাজ করে।

গাঢ় রঙের সবুজ শাক সবজি
গাঢ় রঙের সবুজ শাক সবজি খাদ্য আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের শক্তির আধার। এসব খাবার হার্টকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বার্লি ও শস্য জাতীয় খাবার
এসব শষ্য জাতীয় খাবার খাদ্য আঁশের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও এতে থাকে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যার ফলে এরা ওজন বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, হৃদরোগ এবং অন্যান্য বার্ধক্যজনিত রোগের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

কাঠ বাদাম
ত্বকের স্থিতিস্থাপকতার উন্নতির জন্য সেলেনিয়াম হচ্ছে একটি প্রয়োজনীয় উপাদান যা কাঠ বাদামে রয়েছে। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করার মতো উপাদানও এতে রয়েছে।

আলু বোখারা
আলু বোখারার রয়েছে প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ ও বার্ধক্য বিরোধী গুনাগুন যা সারা বিশ্ব জুড়ে বয়স্ক মানুষের কাছে সমাদৃত। এছাড়া এই ফলটি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্য আঁশ এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। তাজা বা শুকনো যেকোনো ভাবেই এটি খাওয়া হোক কেন এই ফলটি তারুণ্য ধরে রাখার অন্যতম একটি খাবার।

কালো ও লাল সিমের বিচি বা কিডনি বিন
তারুণ্য ধরে রাখার তালিকার শেষ খাবারটি হচ্ছে কালো ও লাল সিমের বিচি বা কিডনি বিন। কারন এতে রয়েছে অনেক বেশি পরিমানে খাদ্য আঁশ, পটাসিয়াম এবং প্রোটিন। এসব পুষ্টি উপাদান হার্টকে ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরে খুব ভালো পরিমানে পুষ্টি প্রদান করে।

লেখিকা
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)

সূত্রঃ বোল্ড স্কাই

আরো পোস্ট দেখুন

comments