আপনি কি চাকরি খুঁজছেন? তাহলে এই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস আপনার জন্য

job-seeker

বর্তমানে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ গ্রাজুয়েশন করা শিক্ষিত জনগণ এমন একটা সময় পার করছে যেখানে চাকরি পাওয়াটা  হয়ে গেছে সোনার হরিণ খোঁজার মত। মরুভুমির একটা জায়গায় পানি পেলেই যেমন সবাই সেখানে ছুটে যায়, তেমনিভাবে আমাদের দেশের কোথাও একটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলেই, মৌমাছির মত হাজার হাজার গ্রাজুয়েশন করা চাকরি প্রার্থীরা সেখানে আবেদন করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে  ন্যূনতম যোগ্যতার কথা উল্লেখ করা থাকলেও, পদ সংখ্যা কম থাকায় সৌভাগ্যবান কিছু লোকই কেবল চাকরী পায়। এখন প্রশ্ন হলো, চাকরি পাওয়াটা কি সত্যিই ভাগ্যের উপর নির্ভর করছে? নাকি এর পিছনে অন্য কিছু?




জোরের সাথেই উত্তর দেয়া যায়  “না”। কারন মানুষ নিজেই তার ভাগ্যের ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এমন প্রশ্নের উত্তরে আপনি কি বলতে চান, “তাহলে ঐসব চাকরি প্রার্থীরা কীভাবে চাকরী পাচ্ছে?” উত্তরটা খুবই সহজ।

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন যে, বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলোতে আপনার একাডেমীক সার্টিফিকেটকে খুব বেশি মূল্যায়ন করা হয় না। যেটুকু ন্যুনতম একাডেমিক রেজাল্ট না হলেই নয়, প্রার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে সেটুকুই তারা সাধারণত প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আপনি হয়তো ভাবছেন যে, আমার বন্ধু আমার চেয়েও খারাপ রেজাল্ট করে চাকরী পেয়ে গেলো তবে আমি কেনো পেলাম না। বাংলাদেশের লাখ লাখ মাস্টার্স পাশ করা ছেলেমেয়েদের আপনার মতই একই প্রশ্ন হতে পারে কিংবা না। যদি হ্যাঁ, তবে আপনার বন্ধু চাকরী পেয়েছেন কারণ, তার মধ্যে এক্সট্রা কারিকুলাম বলতে কিছু একটা ছিল। নিচের বিষয়গুলো আপনাদের জন্য হতে পারে ভালো মানের উত্তর কিংবা কারো কারো কাছে এই আর্টিকেলটি হতে পারে অনেক বেশী প্রয়োজনীয়ঃ

  • বড় বড় কোম্পানিগুলো বর্তমানে চাকরি নিয়োগের ক্ষেত্রে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয় তা হচ্ছে প্রার্থীকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো দখল থাকতে হবে কিংবা দক্ষ।
  • কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে।
  • তাকে খুব চটপটে এবং স্মার্ট হতে হবে।
  • প্রার্থীকে অবশ্যই প্রত্যকের সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
  • ক্যারিয়ার গঠন করার উপর নুন্যতম দক্ষতা থাকতে হবে।
  • প্রার্থীর শেখার আগ্রহ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সেই সাথে নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ থাকতে হবে।
  • তাকে অবশ্যই বাকপটু হতে হবে।
  • প্রার্থীর উপস্থিত বুদ্ধি থাকতে হবে।
  • সবধরনের কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
  • প্রার্থীর চাকরীর সি ভি তে বড় পদধারী পরিচিত কারো রেফারেন্স উল্লেখ করতে হবে।
  • ইন্টারভিউয়ে নিজের পুরোটাই উন্মোচিত করে দিতে হবে। পরীক্ষকদের কাছে নিজের পজিটিভ দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।
  • ভালো পদে চাকরী করছেন এমন কেউ পরিচিত থাকলে তার সাথে আলোচনা করা যেতে পারে। এতে করে কোম্পানীগুলো বর্তমানে কি ধরনের প্রার্থী আশা করছে তা জানা যাবে।

এবার একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার মধ্যে কি উপরের গুণগুলো আছে কিনা নেই? যদি না থাকে তবে কীভাবে আপনি একটা ভালো চাকরির আশা করছেন? আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজী ভাষা ও কম্পিউটার শেখানোর কোচিং গুলোকে ৪৫ উর্ধ্ব  লোকেরা এসে ভর্তি হয়। কেন জানেন? শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রে তার জায়গাটা ধরে রাখার জন্য। তাহলে ভাবুন তো একবার! যিনি কর্মক্ষেত্রে ঢুকে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন তারই চেয়ার ধরে রাখার জন্য এত পরিশ্রম করতে হচ্ছে সেখানে যারা চেয়ার খুঁজছেন তাদের কতটুকু পরিশ্রম আর যোগ্যতা অর্জন করতে হবে?

আপনি যদি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন তবে মাস্টার্স কিংবা অনার্স নয়, তার আগেই আপনি উপার্জন করা শুরু করতে পারবেন। এরকম অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা অনার্সে ভর্তি হওয়ার আগেই বিভিন্ন ক্যারিয়ার কোর্সে নিজেদের জড়িয়ে রাখেন। এর কারণে যেমনিভাবে তাদের উপার্জন হচ্ছে ঠিক তেমনি করে শিখছেন আরও অনেক কিছুই। অনার্স লেভেলে ভর্তি হয়েই যদি সামান্য কিছু উপার্জন করা যায়, তাহলে ক্ষতি কি?

মনে রাখবেন, শুধুমাত্র একাডেমিক রেজাল্ট দিয়েই আপনি চাকরি পাওয়ার চিন্তা করবেন না। এখন থেকেই আপনার নিজেকে গড়ে তুলতে হবে একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে। তবেই হতে পারেন অন্যদের মত আপনিও একজন সফল ব্যক্তি। আর আপনি অবশ্যই নিজেকে একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান।

আপনার ক্যারিয়ারের সর্ব্বোচ্চ সফলতা আশা করছি।

আরো পোস্ট দেখুন

comments