৫টি কারণ যার জন্য আপনি হতে পারবেন না একজন সফল ফ্রীল্যান্সার

এখানে লেখা সব কিছু আমার একান্ত উপলব্ধি কারো মনে কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখা না

আমাদের দেশে এখন  ফ্রীল্যান্সিং এর বাতাস বইছে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ইন্টারনেট থেকে টাকা ইনকাম করে ঘরে বসে বড়লোক হতে। ঘরে বসে বড়লোক হওয়া কি এতই সোজা ? বাইরে থেকে দেখলে ফ্রীল্যান্সিং কে মনে হতে পারে আরামের একটা পেশা, যেখানে কম্পিঊটারের সামনে বসলেই টাকা পাওয়া যায়। কম্পিউটার গুলো যেন ডলার ছাপানো মেশিন। অনেকে এইরকম হুজুগে পরেই ফ্রীল্যান্সিং এ আসেন। কিছু দিন পরেই বুঝতে পারেন  এই পেশা তার জন্য না।

আসুন দেখি কি সেই ৫ টি কারণ যার জন্য আপনি হতে পারবেন না একজন সফল ফ্রীল্যান্সার

    • ধৈর্য : ফ্রীল্যান্সিং এ সফল হতে ১ম যে গুণ টি দরকার বলে আমি মনে করি তা হল ধৈর্য। ধৈর্য না থাকলে আপনি কখন ই এই ফ্রীল্যান্সিং জগতে ঠিকে থাকতে পারবেন না। আর নতুন ফ্রীল্যান্সারদের দিতে হয় সবচেয়ে বেশি ধৈয্য এর পরীক্ষা । কাজ পেতে ১ মাসের জায়গায় ৩ মাস লাগতে পারে তাই বলে ধৈয্য হারালে চলবে না।সফল ফ্রীল্যান্সার
    • দক্ষতা : আপনি কেন মনে করেন যে আপনি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেট প্লেস এ কাজ করার যোগ্য ? আপনি কি আন্তর্জাতিক মানের কাজ ডেলেভারি দিতে পারবেন ? ফ্রীল্যান্সিং এ সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। abcd শিখে এখানে এসে লাভ নেই। যদি মনে করেন আপনার কাজ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ড্রাডের কাজ তাহলে ই ফ্রীল্যান্সিং এ আসুন। নতুবা আরো প্র্যাকটিস করুন। কাজ না জেনে হয়ত বা কপালের জোরে কাজ পেতে পারেন, কিন্তু সেই কাজ আপনি কখন ই সফল ভাবে করতে পারবেন না। এর, ওর পিছনে দৌড় দিয়ে কাজ কমপ্লিট করতে পারবেন না। উল্টো আরো দেশের বদনাম করবেন। তাই আগে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের কাজের জন্য তৈরি করুন তারপর ফ্রীল্যান্সিং এ আসুন।
    • ইংরেজি : আমি এমন অনেককেই চিনি যারা কাজে যথেষ্ট দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও ফ্রীল্যান্সিং এ এসে কোন কাজ পায়না। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল ইংরেজিতে ভাল না হওয়া। একজন সফল ফ্রীল্যান্সার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভাল হতে হবে। আপনার ক্লায়েন্ট আপনার কাছে কী চাচ্ছে তা যদি আপনি বুঝতেই না পারেন তবে কাজ করবেন কিভাবে ? এ জন্য যে আপনাকে একদম ইংরেজির ডিকশোনারি মুখস্থ করতে হবে তা নয়। মোটামুটি সিম্পল ভাবে কথা বলা কিংবা চ্যাটিং যাতে করা যায় এমন ইংরেজী আপনাকে জানতে হবে। না হলে ফ্রীল্যান্সিং এ আপনি সুবিধা করতে পারবেন না। তাই কাজের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠুন । অনেক কে দেখেছি শুধুমাত্র ইংরেজী ভাল জানার জন্য এপ্লায় করা মাত্রই কাজ পায়।
    • অলসতা : কাজ করে খাইতে ইচ্ছা করে না ? কম্পিউটারের সামনে বসলেই ঘুম আসে আপনার ? তাহলে ফ্রীল্যান্সিং আপনার জন্য না। আগেই বলেছি বাইরে থেকে ফ্রীল্যান্সিং দেখতে যতটা সহজ ও আরামের কাজ মনে হয় এতটা সহজ আসলে না। শাররীক চাপের সাথে মানসিক চাপও একসাথে নিতে ফ্রীল্যান্সিং এ। টানা ৮ – ১০ ঘণ্টা ও কাজ করা লাগতে পারে সময় বিশেষে । তাই যদি আপনি অলস ধরণের লোক হয়ে থাকেন তাহলে  ফ্রীল্যান্সিং আপনার জন্য না।
    • কম রেটে কাজ :

উপরের সব গুলো তে আপনি পাশ করার পর ও নিজকে একজন সফল ফ্রীল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন না যদি, আপনি কম রেটে কাজ করে নিজেকে ফকিন্নি হিসেবে বিদেশী মানুষের কাছে পরিচয় দেন। ১০ -১৫ সেন্টে কাজ করে আপনি যা ইঙ্কাম করবেন তার চেয়ে ঢাকার জিগাতলা মোড়ের ফকির বেশি ইঙ্কাম করে। ফ্রীল্যান্সারতাই কম রেটে কাজ করে মার্কেট নষ্ট না করে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী এভারেজ রেটে কাজ করুন। কম রেটে কাজ করে আপনি যেমন নিজের ক্ষতি করেন সেই সাথে মার্কেটপ্লেস এর সব ফ্রীল্যান্সারদের ও ক্ষতি করেন। তাই ভাল রেটে কাজ করেন দেখবেন কয়েকদিন এর ভিতর আপনার ব্যাংক-ব্যালেন্স ভারী হয়ে গেছে।

 

লেখাটা যদি ভাল লেগে থাকে কিংবা আপনার উপকার হয়, তাহলে লেখাটি শেয়ার করুন । লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান নিচের কমেন্ট বক্স এ ।

আমার ফেসবুক প্রোফাইল

আমি আছি গুগল প্লাসেও

সকল কে ধন্যবাদ :)

আরো পোস্ট দেখুন

comments