১৩টি কাজ দিয়ে ক্যান্সারকে প্রতিহত করুন

“ক্যান্সার” শব্দটি মূলত এসেছে কাঁকড়ার ল্যাটিন একটি প্রতিশব্দ থেকে, কারণটা হচ্ছে অনেকটা কাঁকড়ার মতোই নিঃশব্দে এই বিশেষ রোগটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আর এই ক্যান্সারের পেছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করতে পারে। চেষ্টা করুন এবং কিছু সাধারণ কৌশল ব্যবহার করতে পারেন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্যেও ।

আমরা সাধারণত যা ভেবে থাকি ক্যান্সার হচ্ছে একটি মাত্র রোগ। কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে থাকে একেবারে কোষীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরিবর্তন আর তা আমরা কোনভাবেই দেখি না বা খেয়াল করি না এবং এর পেছনে কাজ করে আমাদের অনেক প্রভাবক। যেমন সূর্যালোক থেকে শুরু করে খাদ্যভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং ধূমপান অনেক কিছুই ক্যান্সারের ঝুঁকির পেছনে কাজ করে যা আমাদের কিছু মানুষের জানা থাকলেও তা আবার অনেকের কাছেই অজানা। আপনারা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে তাহলে মূলত কি করতে পারেন? আর সেই জন্য আপনারা সবাই অনুসরণ করতে পারেন জীবনযাপনের বেশ কিছু সংখ্যক সহজ-সরল কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি।

Cancer

১) যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যকর ওজন রাখুন

চেষ্টা করবেন নিজের বয়স, শারীরিক গঠন ও উচ্চতা অনুযায়ী একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে।

২) শরীর রাখুন সবসময় সক্রিয়

ব্যায়াম আপনার হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো বটে, কিন্তু আপনি জানেন কি তা আবার ক্যান্সার রোধ করতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য ব্যায়াম করতে পারলে ভালো তা অনেক বেশি ভালো ক্যান্সার ঝুঁকি রোধে।

৩) বেশী করে শাকসবজি এবং ফলমূল খাওয়া

চেষ্টা করবে প্রতিদিন শাকসবজি ও ফলমূল খেতে কারণ এই শাকসবজি ও ফলমূলে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ এবং এরা বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আর দেখবেন আপনি বেশ কম দামেই পাবেন এসব খাবার।

৪) চেষ্টা করুন যত কম চিনি ও ফ্যাট জাতীয় খাবার না খাওয়া

দেখবেন অতিরিক্ত ফ্যাট এবং চিনি কোনোটাই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে না বরং এরা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে সহায়তা করে।

৫) পরিমিত পরিমাণে খান রেডমিট

আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো অধিকাংশ মানুষই যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ খেতে পান না সেটা কোন না কোন কারণে, আর এই কারণে এই উপদেশটি মূলত তাদের জন্য অনেক বেশি প্রযোজ্য যারা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত রেডমিট খেয়ে থাকেন।

৬) অ্যালকোহল বর্জন করার চেষ্টা করুন

মুখ ওগলার ক্যান্সারের জন্য দায়ী এই পদার্থটি। যদিও অ্যালকোহল পান বাংলাদেশে তেমন প্রচলিত নেই তারপরও একটু সতর্ক থাকা ভালো।

৭) অল্প অল্প করে লবণ খাওয়ার অভ্যাস করুন

খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ না করাই ভালো। এর পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার বা ফাস্টফুড খাবার সময়েও বেশী লবণ খাওয়া হয়ে যাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

৮) সাপ্লিমেন্ট বা খাদ্যের বিকল্প কিছু খাওয়া বন্ধ করুন

অনেকে আবার ডায়েট করার সময়ে বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন না জেনে- না বুঝে। যদি ডায়েট করতেই হয় তাহলে শুধুমাত্র খাবারের ওপর নির্ভরশীল থাকুন এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।

৯) আপনার যদি সম্ভব হয় তাহলে বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং করাতে পারলে ভালো

ব্রেস্ট ফিডিং একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা শরীর ভালো রাখে এবং কিছু ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায়। তাই ব্রেস্ট ফিডিং এর সুযোগ থাকলে তা ব্যবহার করাই ভালো।

১০) ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার সময়ে থাকুন সাবধান

যারা ক্যান্সার থেকে সেরে উঠছেন তাদের বিশেষ কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়।

১১) কড়া রৌদ্রের সময় ত্বক ঢেকে রাখুন যতটা সম্ভব

মনে রাখবেন অতিরিক্ত রোদে ত্বকের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণেই চেষ্টা করবেন ত্বক যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে এবং সাথে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন নিয়ম অনুযায়ী এবং হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে মাথায় রাখবেন বাচ্চাদের ত্বক বেশী সংবেদনশীল থাকে তাই তাদের ব্যাপারে থাকুন অনেক বেশী সতর্ক।

১২) ধূমপানকে না বলুন

ধূমপান আন্তর্জাতিক বিশ্বে বার্ষিক ২০ শতাংশ ক্যান্সার হচ্ছে মৃত্যুর মূল কারণ। এ কারণে নিজে ধূমপানে আসক্ত থাকলে ছেড়ে দিন এবং অন্যদেরও ধূমপান বর্জনে অনুপ্রাণিত করুন।

১৩) যদি সম্ভব হয় তাহলে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় থাকুন

কিছু কিছু ক্যান্সার ইনফেকশন থেকে হয় এবং এগুলো ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এসব ভ্যাক্সিন সহজলভ্য হলে অবশ্যই ব্যবহার করুন।

সূত্র: Alessandro R Demaio, IFLScience

আরো পোস্ট দেখুন

comments