সি প্রোগ্রামিং [পর্ব-০১]:: সূচনা ও প্রথম প্রোগ্রাম

সি প্রোগ্রামিং এর ধারাবাহিক টিউনের প্রথম পর্বে সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি। সি প্রোগ্রামিং সম্পর্কে সহজ ভাবে জানা ও শেখার উদ্দেশ্য নিয়ে আজ থেকে ধারাবাহিক টিউন করা শুরু করলাম। আশা করি টিউন গুলো নিয়মিত দেখার মাধ্যমে আপনারা সি প্রোগ্রামিং বিষয়ক স্পষ্ট ধারনা লাভ করতে পারবেন এবং প্র্যাকটিস করার মাধ্যমে শিখতে পারবেন।

প্রোগ্রামিং এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। আজ আমরা চোখের সামনে যত প্রযুক্তিগত জিনিস দেখছি, সব কিছু তৈরির মূলে রয়েছে প্রোগ্রামিং। কম্পিউটার সফটওয়ার, গেমস, মোবাইল এপলিকেশন, ওয়েব পেইজ থেকে শুরু করে গাড়ি, এরোপ্লেন, মহাকাশ যান, মেডিকেল ডায়াগনসিস মেশিন, মাইক্রোওয়েব ওভেন, লিফট, গড়ি, ক্যালকুলেটর সহ সকল ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রতেও প্রোগ্রামিং এর ব্যবহার রয়েছে। তাই ভালো ভাবে প্রোগ্রামিং শিখতে পারলে অনেক কিছুর খুব কাছাকাছি যাওয়ার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং জ্ঞান দিয়ে অনেক কিছুই উদ্ভাবন করা সম্ভব। আর সকল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের মূল যেহেতু সি, তাই আমরা সি প্রোগ্রামিং শিখতে পারলে অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজও খুব সহজে শিখতে পারবো।

সি প্রোগ্রামিং করতে হলে আমাদের প্রয়োজন কম্পিউটার, আইডিই এবং কম্পাইলার। প্রোগ্রামিং এর কোড লেখার জন্য সাধারণত আইডিই ব্যবহৃত হয় এবং কম্পাইলার মূলত আমাদের লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের ভাষায় বোঝার জন্য মেশিন লাংগুয়েজে কনভার্ট করে দেয়। আর আমরা সি প্রোগ্রাম লেখা ও কম্পাইল করার জন্য বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় আইডিই সফটওয়্যার কোডব্লকস ইউজ করবো। নিচের লিংক থেকে কোডব্লকস ডাউনলোড করে ইন্সটল করেনিন। ডাউনলোডের পুর্বে দেখেনিন আপনি যে ভার্শন ডাউনলোড করছেন তাতে যেন কম্পাইলার সংযুক্ত থাকে।

কোডব্লকস ডাউনলোড লিংক

কোডব্লকস ওপেন করে File–> New–> Project… এ ক্লিক করুন

1

Console Application সিলেক্ট করে–> Go

2

ল্যাংগুয়েজ হিসেবে C সিলেক্ট করে–> Next

3

Project Title এবং Project Folder সিলেক্ট করে–> Next–> Finish করুন

4

এবার কোডব্লকসের বাম পাশে আপনার Workspace দেখতে পাবেন। ঐখানে আপনার প্রোজেক্ট গুলো দেখাবে। প্রোজেক্টের মধ্যে  Source থেকে main.c নামের ফাইলটি ওপেন করুন। এটি কোডব্লকস তৈরি করা সাধারন টেমপ্লেট, যা প্রতি প্রজেক্টের জন্য তৈরি হয়ে থাকে।

5

উপরের প্রোগ্রামের প্রথম লাইন হচ্ছে #include<stdio.h>। include মানে হচ্ছে কোন কিছু যুক্ত করা। stdio এর পূর্নরুপ হচ্ছে standard input output আর .h দিয়ে বুঝানো হয় এটা একটা header ফাইল।

int main(), এটিকে বলা হয় মেইন ফাংশন। আমরা যখন প্রোগ্রামটি রান করাবো তখন এ মেইন ফাংশন থেকে কাজ করা শুরু করবে। তাই সব প্রোগ্রামে একটি মেইন ফাংশন থাকতে হয়। মেইন ফাংশনের শুরুতে ও শেষে দ্বিতীয় বন্ধনী থাকে।

মেইন ফাংশন এর দ্বিতীয় বন্ধনী ভেতর লেখা আছে printf (“Hello world!”);।এখানে printf() হচ্ছে একটি ফাংশন। printf এর মানে হচ্ছে print formatted। এটিকে লাইব্রেরী ফাংশনের স্ট্যান্ডার্ড আউপুট ফাংশন বলে। printf() এর কাজ হচ্ছে কনসোলে/স্ক্রিনে কিছু প্রিন্ট করা। ডবল কোটেশন চিহ্নের ভেতরে আমরা যা লিখব তাই স্ক্রিনে প্রিন্ট হবে।

এরপর আছে return 0;। main হচ্ছে একটা ফাংশন এবং প্রত্যেক ফাংশনের একটা return মান থাকতে হয়। যা ফাংশন এর কাজ শেষে রিটার্ন করে। return 0 মানে শূন্য রিটার্ন করা।

printf (“Hello world!”); বা return 0; এ গুলোকে বলে স্টেটমেন্ট। প্রতিটি স্টেটমেন্টের শেষে একটি করে সেমিকোলন দিতে হয়। সেমিকোলন না দিলে কম্পাইলার ভুল দেখাবে এবং প্রোগ্রামটি রান হবে না। প্রোগ্রামিং এর শুরুর দিকে অনেকেই সেমিকোলন দিতে ভুলে যায়, তখন কম্পাইল ইরর দেখায়। তাই প্রোগ্রাম লেখার সময় খেয়াল রাখুন, যেন কোন ভুল না হয়।

এবার কোডটি কে কম্পাইল করে রান করানোর জন্য, উপরের টুলবার থেকে প্রথমে Build এবং তারপর Build and Run এ ক্লিক করুন। এবার নিচের মত আউটপুট  দেখালে আপনি আপনার প্রথম সি প্রোগ্রাম রান করাতে সক্ষম হয়েছেন।

6

 

আজকের মত এই পর্যন্তই। পরবর্তী টিউনে সি প্রোগ্রামিং নিয়ে আরও আলোচনা করবো। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সোর্সটিউনের সাথে থাকুন। আর হ্যাঁ টিউন কেমন হয়েছে জানাতে ভুলবেন না, আপনাদের উৎসাহই আরও ভালো টিউন উপহার দেয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে। ফেসবুকে আমি

আরো পোস্ট দেখুন

comments