আপনি জানেন কি? শীতে ত্বকের যত্ন করবেন কিভাবে?

এখন চলছে তুমুল শীতের মৌসুম। তৈরি হচ্ছে শুষ্ক  আবহাওয়া। সেই সাথে শুষ্ক হয়ে উঠছে আমাদের ত্বক। যখন আমাদের শুষ্কতার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা ত্বকে সৃষ্টি করে নানা রকমের সমস্যা। আপনাদের সৌন্দর্যেরও হানি হতে পারে ব্যাপকভাবে। পৃথিবীর মানুষ সবাই চাই  নিজের চেহারাটা একটু বেশী সুন্দর থাকুক? সবাই প্রশংসা করুক নিজের রুপের বাহার? আমাদের সুন্দর চেহারা বা রূপের জন্য সবাইকে প্রথমে নিতে হয় ত্বকের পরিচর্যা। আর শীতেকালে তাতো কোন কথাই নেই। আমাদের প্রত্যকের ত্বকের প্রধান শত্রু হচ্ছে শীত। অনেক বেশি পরিচর্যা করতে হয় এ সময়। এবং সেইসাথে শীতে ত্বকের শুষ্কতা আমাদের মারাত্মক রূপ নেয়ার আগে কিছুটা যত্ন নিলেই আপনার ত্বককে করা সম্ভব কোমল, সজীব। কিন্তু তা করবেন কীভাবে?

শীতে ত্বকের যত্ন
শীতে ত্বকের যত্ন করবে আপনি নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করতে পারেন-

  1. আপনার গোসলের সময় দীর্ঘক্ষণ গোসল করবেন না এবং গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। কারণ এগুলো আপনার সুন্দর ত্বকের শুষ্কতা আরো বেশী বৃদ্ধি করে তোলে। সাধারণত আপনি গোসলের পরে ত্বকে ভেজা ভাব থাকতেই ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করটে পারেন। তা হতে পারে আপনার হাতে, পায়ে, মুখে এবং পুরো শরীরে। এবং চেষ্টা করুণ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ময়েশ্চারাইজার মেখে ঘুমাতে। সবসময় চেষ্টা করবেন মনে রাখতে , ত্বক যদি আপনার একেবারে শুকিয়ে যায় তারপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে কিন্তু আর কাজ হবে না। আপনার ত্বকে ভেজাভাব থাকা অবস্থায় আপনাকে ময়েশ্চারাইজার মেখে ফেলতে হবে।
  2. চেষ্টা করুণ সবসময় শীতে গোসলের সময় সাবান কম ব্যবহার করতে যা আপনার জন্যই ভালো এবং ত্বকের জন্যও বটে। কারণ সাবান সবসময় ত্বকে শুষ্কতা সৃষ্টি করে তোলে। সুতরাং  চেষ্টা করবে গোসলে কিংবা হাত-মুখ ধুতে সাবান যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করা যায়। এ সময় চেষ্টা করুণ গ্লিসারিন সমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করতে, যা আপনার ত্বকের জন্য অনেক বেশী উপকারি।
  3.  সাধারণত শীতে ত্বকের শুষ্কভাব দূর করতে আপনি গ্লিসারিন কিংবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো হচ্ছে গ্লিসারিন এবং ভালো ময়েশ্চারাইজার। ব্যবহার বিধি হিসেবে একভাগ গ্লিসারিনের সাথে দু’ভাগ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। গ্লিসারিনের আঠা-আঠা ভাবটা সহজেই দূর করার জন্য চেষ্টা করুণ গ্লিসারিন মাখার পর একটা ভিজে তোয়ালে বা কাপড় হালকা করে ত্বকে চেপে ধরলে রাখলে যা  আপনার ত্বকের একটা আঠাভাব এনে দিবে।
  4. সবসময় চেষ্টা করুণ রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ত্বকে সানস্ক্রিন ক্রিম মেখে বের হতে। শীতেকালে সাধারণত রোদ মিষ্টি আমেজ সৃষ্টি করলেও ত্বকের জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকর। যদি সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি আপনার ত্বকের সমূহকে ক্ষতি করে। আপনি হয়তো জানেন না কিংবা জানেন যে আজকাল ত্বকের ক্যান্সার ঘটা বিচিত্র কিছু নয়। তাই ত্বককে রক্ষা করতে হলে সানপ্রোটেকটিভ ফ্যাক্টর বা এসপিএফসমৃদ্ধ ক্রিম মেখে বের হওয়াই মঙ্গলজনক। বিভিন্ন মাত্রার এসপিএফসমৃদ্ধ ক্রিম বা লোশন রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে এসপিএফ-১৫ সমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের জন্য নিরাপদ।
  5. শীতে আপনার শরীরের ত্বক ফেটে যেতে পারে আর সেকারণেই সৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগের। এই থেকে আপনাকে প্রতিরোধ করার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে সবসময় চেষ্টা করবেন পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মাখতে যাহাতে ত্বকের শুষ্কতা কেটে যায় এবং আপনার ত্বককে রাখবে সজীব। যদি আপনার ত্বক ফেটে যাওয়ার পরিমাণ কোনভাবে বেড়ে গেলে এবং অলিভ অয়েল ব্যবহারে তেমন কোন ধরণের উন্নতি না ঘটলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
  6. আপনি দেখবেন বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি ত্বকের সুরক্ষা অনেক বেশী নিশ্চিত করে থাকে। তারমধ্য যে সমস্ত ফলগুলো রয়েছে সেগুলো হ্লঃ গাজর, শিম, লেবু, টমেটো, পালংশাক প্রভৃতি সবজি খেলে আপনার ত্বক যৌবনদীপ্ত থাকে। এবং দেখবেন অনেকেই ত্বক সুন্দর রাখার জন্য ত্বকে বিভিন্ন রকমের সবজি ও ফলের রস মেখে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ত্বকে এ ধরনের সবজি বা ফলের রস মাখলে সত্যিকার অর্থে কোনো কাজ হয় না, উপরন্ত ত্বকে লেবুর রস মেখে বাইরে বেরোলে ত্বকের রঙ আরো কালো হয়। ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবজি এবং ফলমূল খেতে হবে। সেই সাথে পান করতে হবে প্রচুর পরিমাণ পানি। আর হ্যাঁ, ধূমপান একেবারেই করবেন না। গবেষকরা বলেন, ধূমপান ত্বককে বৃদ্ধ করে ফেলে।

 

আমার পূর্বে প্রকাশিত আর্টিকেলগুলো দেখুনঃ

>>>>বিয়ের পর আপনি কি মোটা হয়ে গেছেন ? তাহলে ঝটপট জেনে নিন ওজন কমানোর সঠিক টিপস<<<<

>>>>জেনে নিন কেন দারুচিনি স্বাস্থ্যর জন্য অনেক বেশী উপকারি?<<<<

>>>>যে খাবারগুলো ১০ গুণ বাড়িয়ে দিবে আপনার কাজের গতি<<<<

>>>>আপনি জানেন কি সৌর্ন্দয্য ও লাবণ্যতা ধরে রাখবেন কিভাবে?<<<<

আরো পোস্ট দেখুন

comments