বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর নামের অর্থ ও নামকরণের পেছনের কাহিনী

বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর নাম প্রতিদিনই শুনে আসছেন, লোগো দেখে আসছেন। বেশ বিচিত্র নাম তাদের, বেশিরভাগ সময়ই নামগুলোর অর্থ জানি না আমরা। ভেবে দেখেছেন কি এগুলোর নামকরণের পেছনে কোনো কাহিনী বা ইতিহাস আছে কিনা? কোনোটির আছে, আবার কোনোটি নিছক শ্রুতিমধুর নাম। তারপরও জেনে নিন বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ডের নামের অর্থ। এর আগে ই-কমার্স নিয়ে আর্টিকেল লিখতেও এতো কষ্ট হয়নি যতটা কষ্ট হয়েছে এটি লিখতে। ঘণ্টায় হিসাব করলে কমপক্ষে ২০-২২ ঘন্টা ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাটি করেছি। তাই বুঝতেই পারছেন খুবই তথ্যবহুল একটি আর্টিকেল এটি।

নাইকি
———-

প্রায় প্রতিটি খেলার সবচেয়ে বড় তারকাদের স্পন্সর করে নাইকি। মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে ১৯৬৪ সালে। নাইকি নামটি এসেছে প্রাচীন গ্রিসের বিজয়ের দেবী নাইকির নাম থেকে। কোম্পানিটির ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুও ক্রীড়াজগতের বিজয়ীরা।

ফ্যান্টা
———-

কোকা-কোলা কোম্পানি যখন ফ্যান্টা বের করার সিদ্ধান্ত নিলো, তখন এর নাম নিয়ে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছিল। কোকা-কোলা জার্মানি প্রধান এক মিটিংয়ে প্রস্তাব রাখেন ‘ফান্টাসি’ (Fantasie) রাখার। ‘কল্পনা’ শব্দটির জার্মান প্রতিশব্দ ফান্টাসি। সেই ফান্টাসি পরে ফান্টা নামে বের হয়।

নিনটেনডো
—————-

জাপানি ইলেকট্রনিক্স ও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিনটেনডোর শুরু হয়েছিল তাসের কার্ড তৈরি দিয়ে। সেসময় এর নাম ছিল নিনটেনডো কোপ্পাই, অর্থাৎ নিনটেনডো প্লেয়িং কার্ড কোং। পরে শুধু নিনটেনডো রাখা হয়। এটি খুবই প্রাচীন একটি শব্দ, যার অর্থ নিয়ে ‘ভাগ্যকে উপরওয়ালার হাতে ছেড়ে দাও’।

স্যামসাং

———-
কোরিয়ান ভাষায় ‘স্যাম’ অর্থ তিন আর ‘সাং’ অর্থ তারা। তাহলে স্যামসাং মানে দাঁড়ায় তিন তারা। কোরিয়ান সংস্কৃতিতে তিনটি তারা একসঙ্গে থাকলে তা ব্যাপকতা ও শক্তির প্রতীক। স্যামসাং এর প্রথম লোগো ছিল তিনটি তারা দিয়ে।

নাইকন
———–
বিখ্যাত ক্যামেরা ও লেন্স নাইকনের নাম এসেছে নিপ্পন কোগাকু থেকে। নিপ্পন কোগাকু অর্থ ‘জাপানিজ অপটিক্যাল’। ১৯১৭ সালে কোম্পান্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে আরেক ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট মিত্সুবিশি একে কিনে নেয়।

ভলভো
————

১৯২৭ সালে সুইডেনের গোথেনবার্গে ভলভো নাট ও বিয়ারিং তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হয়। ল্যাটিন ভলভো শব্দের অর্থ ‘গড়ানো’।

টয়োটা
———–
শুরুতে টয়োটার নাম ছিল তয়োদা, এর প্রতিষ্ঠাতা কিচিরো তয়োদার নামানুসারে। কিন্তু তয়োদা নামের অর্থ ‘ধানখেত’। তাই ১৯৩৭ সালে তা পরিবর্তন করে রাখা হয় তয়োতা। ইংরেজিতে এখন এটি টয়োটা নামেই বিশ্বখ্যাত।

ভার্জিন
————
এত বড় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ভার্জিন’ রাখায় আঁতকে উঠেছিল বিশ্ব। নামটির অর্থ কৌমার্য বা কুমারীত্ব। ভার্জিনের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন তার আত্মজীবনীতে বলেছেন, ব্যবসায় তারা নতুন একটি ধারা আনতে চেয়েছিলেন যে কারণে এ নাম। কোম্পানিটির ব্যাপক সাফল্যের পেছনে এর নামেরও কিছুটা ভূমিকা আছে বলে অনেকে মনে করেন।

সনি
———

জাপানি শব্দ সোনাস থেকে সনি এসেছে। সোনাস অর্থ শব্দ। তবে সনির প্রতিষ্ঠাতারা অবশ্য অন্য কারণে সনি নাম রেখেছিলেন। তারা নিজেদের ‘সনি বয়েজ’ বলতেন, যার অর্থ চতুর ছেলের দল। ১৯৪৬ সালে টোকিওতে সনি যাত্রা শুরু করে।

ডুরেক্স
——–

বিশ্ব অন্যতম বৃহত এই কনডম কোম্পানি যাত্রা শুরু করে দ্য লন্ডন রাবার কোম্পানি নামে ১৯১৭ সালে। তখন তাদের স্লোগান ছিল ডিউর‍্যাবিলিটি, রিলাইয়বিলিটি অ্যান্ড এক্সেলেন্স। তিনটি শব্দের আদ্যক্ষর নিয়ে পরে নামকরণ করা হয় ডুরেক্স। অবশ্য অনেকে মনে করেন ডুরেক্সের পুরো নাম ডিউর‍্যাব্‌ল লেটেক্স। বর্তমানে এটি রেকিট বেনকিজারের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

অ্যাডিডাস
——————

জার্মানির ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা অ্যাডিডাসের নামের অর্থটি বেশ সুন্দর। অল ডে আই ড্রিম অ্যাবাউট স্পোর্টস (All Days I Dream About Sports) বাক্যটির সংক্ষিপ্ত রূপ অ্যাডিডাস। অনেকে অবশ্য মনে করেন অ্যাডিডাস এসেছে এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডলফ ড্যাজলারের নাম থেকে। পরে বাক্যটি মার্কেটিং সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়।

আরো পোস্ট দেখুন

comments