বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে

সোর্স টিউন, অতিথি লেখকঃ সাকেব নাইম, ইজিপেওয়ে

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বিষয়টা অনেক বড় এবং কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টা অনেক জটিল।আমি চেষ্টা করব যত সহজে বিষয়টি সম্পর্কে ধারনা দেয়া যায় ।

প্রথমে একটি কথা বলে রাখি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সাথে আপনার বিজনেস কানেক্ট থাকা মানে আপনি বিশ্ববাজারে আপনার উপস্থিতির আত্মপ্রকাশ করছেন।

প্রথমে আসি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কি ?

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে হল এমন একটি অনলাইন সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনার গ্রাহক তার ক্রেডিট ,ডেবিট কার্ড ,মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকই এর মাধ্যমে আপনাকে যে কোন জায়গা থেকে সশরীরে না এসে পেমেন্ট করতে পারবে, কাস্তমারকে আপনার কাছে আসতে হবে না এবং এই পেমেন্ট আপনি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি উঠাতে পারবেন । উন্নত দেশে সকল প্রকার কেনাবেচা এখন আনলাইনে হয়ে থাকে এবং সকল প্রকার পেমেন্ট তারা অনলাইনে গ্রহন করে থাকে ।

BDpayment_gateway

বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে

বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু পলিসি এর কারনে বাংলাদেশের বাইরের কোন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে বাংলাদেশি কোন কার্ড কাজ করবে না । বাংলাদেশের এবং দেশের বাইরের কার্ড আপানার অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে কাজ করতে হলে আপনাকে বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিতে হবে। এবং এই টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জমা হবে। বাংলাদেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে দেশি বিদেশি সব ভিসা মাস্টার কার্ড কাজ করে ।

আপনি কিভাবে বাংলাদেশি অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে এর জন্য আবেদন করবেন?

আপনি বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিতে হলে আপনাকে সবচেয়ে আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হছে ট্রেড লাইসেন্স আথবা লিমিটেড কোম্পানি লাইসেন্স এবং একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সেই লাইসেন্স এর নামে ।

দ্বিতীয় হচ্ছে আপনার ওয়েব সাইট আথবা অনলাইন সিস্টেম যেখানে গিয়ে কাস্তমার আপনাকে পেমেন্ট করবে ।

বাংলাদেশের ছোট বড় সব কোম্পানি অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে এর জন্য আবেদন করতে পারবেন যদি এইসব লাইসেন্স থাকে এবং সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ।

বাংলাদেশের সকল অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে আপনাকে সব রকম সহযোগিতা করবে আপনার সিস্টেম এর সাথে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টেগ্রেট করে দিতে ।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে টাকা কিভাবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আসবে ?

বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে গুলো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডেইলি , সাপ্তাহে এক বার , দুই বার পেমেন্ট করে থাকে। যখন আপনি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে রেজিস্টার করবেন তখন এই ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলে ক্লিয়ার হয়ে নিবেন অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে কোম্পানি গুলোর সাথে ।

বাংলাদেশি অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে সার্ভিস চার্জ কেমন ?

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এর দুই আবার কারও তিন প্রকার চার্জ থাকে এগুলা হল রেজিস্ট্রেশান ফী, প্রতি ট্রান্সজেকসানে ফী এবং মাসিক ফী । বাংলাদেশি সকল অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে রেজিস্ট্রেশান ফি নিয়ে থাকে সেটা ৫০০০ টাকা থেকে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে । কেউ মাসিক ফী নিয়ে থাকে, কেউ নেয় না । যখন একটা পেমেন্ট প্রসেস হয় তখন আবার শতকরা হিসেবে একটা চার্জ থাকে সেটা ২.৭৫ % থেকে ৪.০০ % হয়ে থাকে । এইসব চার্জ সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলে নিবেন যখন আপনি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানি এর সাথে রেজিস্টার করবেন ।

বাংলাদেশি অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে হিসাব নিকাশ প্যানেল

প্রত্যেকটি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানি এর প্যানেল থাকে যেখানে আপনি সকলপ্রকার হিসাব নিকাশ দেখতে পারবেন। এই প্যানেল না থাকলে আপনি ঠিকমতো হিসাব নিকাশ রাখতে পারবেন না । তাই এই বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ । যার প্যানেল যত আধুনিক এবং বিস্তারিত তার সাথে হিসাব নিকাশ ততো পরিস্কার ।

বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেমেন্ট অপশন

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট অপশন গুলো হল ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, ডাচ বাংলা নেক্সাস কার্ড , বিকাশ মোবাইল ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এবং কিউক্যাশ ইত্যাদি। আরও অনেক পেমেন্ট অপশন আছে কিন্তু সেগুলা এখান সবার কাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেনি । সকল প্রকার দেশি বিদেশি ভিসা এবং মাস্টার কার্ড প্রসেস হবে ।

মার্চেন্ট আইডি কি ?

আপনি যখন অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে রেজিস্টার করবেন তখন আপানাকে মার্চেন্ট আইডি দেয়া হবে । একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর সাথে আপনি অনেকগুলো মার্চেন্ট আইডি নিতে পারনে ।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কি রিস্কি / আমি কিভাবে নিরাপদ থাকতে পারি

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে মোটেও রিস্কি না যদি আপনি কিছু কমন পলিসি মাথায় রাখেন । এবার আসি আপানাকে কি কি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে । আপনারা দুটো জিনিস অনলাইনে বিক্রি করেন একতা প্রোডাক্ট আরেকটা সার্ভিস ।

প্রথমে আসি প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে আপনি যদি প্রোডাক্ট বিক্রি করে থাকেন তাহলে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেয়ার সময় অবশ্যই ডেলিভারি স্লিপে কাস্তমার এর স্বাক্ষর নিবেন এবং অনলাইনে অর্ডার দেয়ার সময় কাস্তমার যে ঠিকানা দিয়েছে সেই ঠিকানাতেই ডেলিভারি দিবেন। ক্যুরিয়ার সার্ভিস দিয়ে ডেলিভারি দিলে ক্যুরিয়ার এর স্লিপ অবশ্যই আপানার কাছে রাখবেন ।

এবার আসি সার্ভিস এর ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই কাস্তমারের কাছে থেকে পাসপোর্ট আথবা ড্রাইভিং লাইচেন্স আথবা ন্যাশনাল আইডি কার্ড কপি আপনার কম্পানির আফিসিয়াল ইমেইল নিয়ে রাখবেন ।

এই দুটো বিষয় খেয়াল রাখলে আপনি সবসময় নিরাপদ । এই ডকুমেন্ট গুলো আপনি অবশ্যই ১২০ দিন পর্যন্ত আপনার কাছে নিরাপদে রাখবেন কেননা কাস্টমার ১২০ দিন পর্যন্ত টাকা তার ব্যাংক কাছে ক্লেইম করতে পারে। এই ডকুমেন্ট আপানার কাছে থাকলে কাস্টমার ক্লেইম করলেও আপনি নিরাপদ থাকবেন । এই ধরনের ঘটনা ১০০ তে একটা হতে পারে। ব্যাংকের এই টাকা ক্লেইম করার প্রসেস রাখা হয়েছে কাস্তমার এর কার্ড দিয়ে কেও যেন প্রতারনামুলক কাজ না করতে পারে । কাস্টমার কিভাবে নিরাপদ থাকতে পারে সেই ব্যাপারে অন্য আরেকদিন বলবো ।

রিফান্ড কিভাবে করবেন ?

আপনি যদি কোন পেমেন্ট রিফান্ড দিতে চান তাহলে আপনার প্যানেল সেই অপশন আছে। অথবা আপনি আপানার অনলাইনপেমেন্টগেটওয়ে কোম্পানি কে ই মেইল এর মাধামে জানাতে পারেন আপনি টাকা রিফান্ড দিতে চাচ্ছেন । আপনি চাইলে পারসিয়াল রিফান্ডও করতে পারনে ।

৩ডি সিকিওর গেটওয়ে পরেও কি আমার ডকুমেন্ট সংগ্রহে রাখতে হবে ?

জি আপনাকে সব সময় ডকুমেন্টস সংগ্রহে রাখতে হবে কারন ৩ডি সিকিওর গেটওয়ে প্রতারনা মূলক পেমেন্ট থেকে আপনাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে । অনেক সময় অনেক কার্ড ৩ডি সিকিওর হয় না সেক্ষেত্রে আপনি প্রতারনার শিকার হতে পারনে কিন্তু ডকুমেন্টস থাকলে আপনি নিরাপদ । উন্নত দেশে সব কোম্পানি যখন অনলাইনে বিক্রি করে তখন এই সব ডকুমেন্টস সংগ্রহে রাখে । আমাদের সকলকে এই সব জিনিস বুঝতে হবে কারন এটা হচ্ছে একটা প্রসেস ।

আজকে এই পর্যন্ত লিখলাম কারও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারনে

ধন্যবাদ

সাকেব নাইম, ইজিপেওয়ে

easypayway

আরো পোস্ট দেখুন

comments