ফেসবুক নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কিছু পরামর্শ

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দিন দিন বেড়েই চলছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর ব্যবহারকারী। ব্যবহারকারী বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে নিরাপত্তা জনিত ঝুঁকির বিষয়টি। নিরাপত্তা জনিত ত্রুটির কারনে প্রতিদিন হ্যাক হচ্ছে হাজার হাজার ফেসবুক একাউন্ট। ফেসবুক একবার হ্যাক হলে তা ফিরিতে আনা খুব অসম্ভব হয়ে দ্বাড়ায়। ইদানিং আমাকে প্রায় এই সমস্যা নিয়ে ফোন করে। মূলত অসচেতনের জন্য ফেসবুক একাউন্ট নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা হয়। তাই আপনারা নিচের কিছু নিয়ম মেনে চলে বিব্রতকত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাবেন ।

ফেসবুক নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কিছু পরামর্শ

Facebook Hacking

আপনারা নিচের কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন:-

১। নিজের গোপনীয়তার বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্ধু নির্বাচন করুন।

২। বন্ধু তালিকায় যোগ করার আগে তার সম্পর্কে খানিকটা জেনে নিন।

৩। আপনার ছবির এলবাম সবার জন্য উম্মুক্ত না করে নির্দিষ্ট বন্ধুদের জন্য করুন।

৪। মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল এমনকি বাড়ির ঠিকানা না দেয়ায় ভালো। কারন মেইল হ্যাক হলে ফেসবুক হ্যাক করা কয়েক মিনিটের ব্যপার মাত্র। অবশ্যই একান্তই যদি যোগাযোগের অংশ উম্মুক্ত করতে চান, সেটা শুধুমাত্র আপনার নির্দিষ্ট বন্ধুদের জন্য করুন।

৫। নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধুর তালিকাকে আলাদা আলাদা বিভাগে ভাগ করে ফেলুন।

৬। বিব্রতকর কিংবা অশ্লীল কিংবা অপ্রাসঙ্গিক কোন ছবির সঙ্গে আপনাকে ট্যাগ করে দিলো কোন বন্ধু। এরপর অন্যরাও তা দেখতে পাবে ট্যাগ এর বদৌলতে। তাই সম্ভব হলে নিরাপত্তা অপশনে গিয়ে ট্যাগ করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে আসুন।

৭। বিভিন্ন সাইবার ক্যাফেতে ফেসবুক এবং এ-মেইল না খোলায় ভালো। কারন আপনার অজান্তে হ্যাকিং সফটওয়ারের মাধ্যমে সবকিছু (পাসওয়ার্ড, ইউজার আইডি) সংরক্ষণ করা সম্ভন।

৮। অনেকে আছেন একটি মেইল খুলে ফেসবুক একাউন্ট খুলে। পরে সেই মেইল একাউন্টের আর খবর রাখেনা। যার ফলে যখন একাউন্ট হ্যাক বা পাসওয়ার্ড ভূলে গেলে বিপদে পরে। তাই যে মেইল দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট খুলেছেন তা নিয়মিত লগিন করুন।

৯। ফেসবুক নিরাপত্তা সেটিংস না বুঝে ছবি আপলোড করবেননা।

১০। মোবাইল নম্বর দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট না খুলে মেইল একাউন্ট দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট খুলুন। এতে ফেসবুক একাউন্ট এ কোন সমস্যা হলে মেইল একাউন্ট দিয়ে তাড়াতাড়ি ঠিক করা সম্ভব। যারা এখন মোবাইল নম্বর নির্ভর তারা যত তারাতাড়ি সম্ভব আপনার ফেসবুক একাউন্টে মেইল যোগ করুন।

১১। অনেক সময় হ্যাকার মেইলে বা ফেসবুক মেসেজে লিংক পাঠিয়ে দেই। এই সব লিংক এ ক্লিক করলে দেখতে অনেকটা ফেসবুক বা মেইল এর লগিন পেইজের মতো। হইতো আপনাকে বিভিন্ন লোভ দেখাবে। কিন্তু ভূলেও এই সব ভূয়া url পেইজ দিয়ে ফেসবুক বা মেইলে লগিন করবেননা। আপনি লগিন করলে সাথে সাথে হ্যাকাদের সার্ভারে আপনার সকল Information চলে যাবে।

১২। ইদানিং কয়েকজনের প্রোফাইলে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও এবং অশ্লীল ছবি দেখা যাচ্ছে। এটি কৌতুহলের বশে বা অজান্তে  ঐ লিংকে ক্লিক করার কারনে সম্পূর্ণ অজান্তে নিজের নামে পোষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটি একধরনের ভাইরাস। সূতরাং ফেসবুকে ট্যাগ, ইভেন্ট বা কোন  অশ্লীল ভিডিও এবং অশ্লীল ছবি দেখলে ভূলেও ক্লিক না করা। এতে সকলের কাছে বিব্রত অবস্থায়তো পরবেনই, আপনার ফেসবুক একাউন্টের সকল Information হ্যাকারের কাছে যাওয়ার কারনে হ্যাক হওয়ারো সম্ভাবনা।

১৩। ফেসবুক থেকে যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন অবশ্যই লগ আউট করে যান। মনে রাখুন, পাতাটিকে সরাসরি বন্ধ না করে লগ আউট করার পর বের হোন। এটাই অন্যতম পরামর্শ।

বিদ্রঃ- ইদানিং আমাদের আদিবাসী মেয়েরা অনেক হইরানির শিখার হচ্ছে।   তাই বিশেষ করে আদিবাসী মেয়েদের বলছি আপনারা নিরাপত্তা ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারন আদিবাসীদের একজনের লজ্জা মানে পুরো জাতির জন্য লজ্জা।

***********আমি ফেসবুক নিরাপত্তা সেটিংস নিয়ে আরো কিছু লেখা লিখছি আশাকরি কাজে লাগবে। ************

আরো পোস্ট দেখুন

comments