ফটোগ্রাফি শিখুন শেখানোর মতন করে

আমি যখন প্রথম ফটোগ্রাফি শুরু করি। তখন অনেক কিছু বুঝতে পারতাম না। আমি জানতাম না আমার না বুঝতে পারার কারনে যেই প্রশ্নগুলো আসছে সেগুলোর উত্তর কোথায় পাবো।

তখন একেওকে জিজ্ঞাসা করতাম। বেশীর ভাগ সময় উত্তর পেতাম না। কেউ বিরক্ত হত, কেউ কেউ হাসত, কেউ বোঝানোর চেষ্টা করত, যারা জানত তারা এমনভাবে বোঝাতো মনে হত, হিব্রু ভাষায় কথা বলছে। দোষ তাদের ছিল না। তারা বাংলাতে বোঝাতে পারত না। আমিও বুঝতে পারলাম কিনা সেটা জানার চেষ্টা করতো না। আমি বাঙালী মানুষ। তাই ইংরেজী বুঝতে ২ মিনিট লাগে সেখানে বাংলাতে কয়েক সেকেন্ড। বাংলাতে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেওয়ার মতন কেউ ছিল না। বাঙ্গালী হয়ে সবাই এমন সব ইংরেজী বলত যার অর্থ খুঁজতে গিয়ে নিজের শেখার আগ্রহটুকু অর্ধেক হয়ে যেত। নিঃস্বার্থভাবে ফটোগ্রাফির বেসিকটুকু শেখানোর কেউ ছিল না। যারা জানত তাদের বললে, ফ্লিকারের লিংক দিয়ে বলত এক্সিভ দেখে বুঝে নিয়েন তখন আমি এক্সিভের তথ্যগুলোকে ভালো করে বুঝতে পারতাম না।

ফটোগ্রাফি শিখুন শেখানোর মতন করে

একসময় খুব জেদ হলো, নিজেই শিখবো, যা শিখবো বাংলাতে বুঝে শিখবো, ইংরেজী বইগুলো পড়ে বোঝার চেষ্টা করলাম, ইউটিউব টিউটোরিয়ালগুলো দেখলাম তারপর সেটা এ্যাপ্লাই করলাম দেখলাম ঠিকঠাক কাজ করছে তখন নিজেই বাংলায় লিখে ফেললাম। এইভাবে একটা বাংলায় প্লাটফর্ম দাঁড়িয়ে গেল। আমার সাথে আরো অনেক লিখলো। একদিন এভাবে হয়ে গেল প্রথম বাংলা অনলাইন ফটোগ্রাফি স্কুল http://school.grasshopper.me.

ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝতে পারলাম। আমরা কেউ সুযোগ দিতে আগ্রহ নই, সারাক্ষণ সুযোগ নেবার তালে থাকি।

আমি এজন্য রাগ পুষি না, দু:খ রাখি না। আমি যেটা পাই নি সেটা যাতে অন্যদের বেলাতে না হয় সেটার কথা ভেবেছি। সবাইকে জ্ঞান শেয়ারের কথা বলেছি। শিখুন, শেখান, যে জানে না তাকে জানান। না জানাটা দোষের নয়, জানতে না চাওয়াটা দোষের। কেউ যদি আপনার প্রশ্ন শুনে হাসে তাতে রেগে যাবেন না, এড়িয়ে যান ধরে নিন উত্তরটা তার অজানা। মনে রাখবেন আপনার উত্তরদাতা কেবল একজনই নয়।

অথচ কাউকে শেখালে কেউ কোনদিন ছোট হয়ে যায় না। বরঞ্চ তার প্রতি অন্যের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা দ্বিগুন হয়।

আরো পোস্ট দেখুন

comments