প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতিসহ ১০ সমস্যার সমাধান আসছে মোবাইলে

প্রশ্নপত্র ফাঁস, যৌন হয়রানি, দুর্নীতির মতো সমস্যগুলোর সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের চেষ্টা শুরু হয়েছে। অ্যাপ্লিকেনশন তৈরির মাধ্যমে এগুলোর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ জন্য শনিবার নতুন কিছুর উদ্ভাবনের আশায় আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় হ্যাকাথনের। নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ হিসিবে চিহ্নিত এই ১০টি সমস্যার সমাধান স্মার্টফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় আনা হবে এবার। সারাদেশের এক হাজার ৭৪৫ জন তুখোড় প্রোগ্রামার নেমে পড়বেন এই কাজে।

জনগনের মতামত ও বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় এই হ্যাকাথনের জন্য ১০টি জাতীয় সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে নিজ ফেইসবুকে পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেন।

জাতীয় এ ১০ সমস্যার কথা জানাতে এ প্রতিবেদন। এসব উদ্ভাবনে কোডারা কাজ করে যাবেন টানা ৩৬ ঘন্টা। সরকারি আয়োজনে দেশের সবচেয়ে বড় এই হ্যাকাথনের উদ্বোধন করবেন প্রতিমন্ত্রী পলক।

শনিবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্ট্রিটিউটে শুরু হচ্ছে দুদিনের এই উদ্ভাবনী আয়োজন।

HACKTHON-BANNER-WELLOW

প্রশ্নফাঁস : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি একটি মাহামারি আকার ধারণ করেছে। এরফলে অযোগ্যরা যোগ্য আর যোগ্যরা থেকে যাচ্ছে মূল্যায়নহীন।

মোবাইল ও ইন্টারনেটে দিন দিন এর ব্যাপকতা বাড়ছে। এবার শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর সমাধান বের করবেন প্রোগ্রামাররা।

যৌন হয়রানি : বাংলাদেশে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। কখনও কখনও ঘটছে আত্মহত্যা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে দেখা যায় ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৯১ শতাংশ মেয়ে কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়।

কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা রাস্তায় কোন জায়গায়ই বাদ যাচ্ছে না হয়রানি। এই যৌন হয়রানি কিভাবে বন্ধ করা যায় সেটি নিয়েও হ্যাকথনে কাজ করবেন কোডাররা।

দুর্নীতি : এ যে বিষফোঁড়া। টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী এবারও বাংলাদেশ ১৪তম দুর্নীতিবাজ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। আর এতে প্রথম হবার লজ্জাতো আগে ছিলই।

ঘুষ ছাড়া এখন কেউ যেমন চাকুরি পান না তেমনি কোন কাজ আদায় করতে গেলেও এর বিকল্প উপায় খুঁজতে হয় সাধারণ মানুষের। দেশের কোন সেক্টরই মুক্তি পায়নি এর গ্রাস থেকে। তাই প্রযুক্তি দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন ডেভেলপাররা।

যানজট : রাজধানী ঢাকা শহরের যানজটের চিত্র দিন দিন যেন বেশামাল হয়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই ঢাকার কিছু অংশের যানজট পর্যবেক্ষণের জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কিছু সিসি ক্যামেরা ও ডিভাইস ইনস্টল করেছে।

এবার তারা পুরো ঢাকার জন্য এসব ডিভাইস ইনস্টল করতে কাজ করছে। কিন্তু কিছুতেই যেন কার্যকর কিছু হচ্ছে না। তাই জাতীয় মোবাইল হ্যাকাথনে নানামূখি উদ্ভাবনের মাধ্যমে যানজট নিরসনে সমাধান দেবেন কোডাররা।

সড়ক নিরাপত্তা : সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিদিনই কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। আমরা হারিয়ে চলেছি কত গুণী মানুষদেরও। অসময়ে অচল হয়ে ঘরে পরে থাকছে কতো হাজারো স্বপ্ন। যেন কোন প্রতিকারই নেই। দেশের ৭০ শতাংশ লোক তাদের যোগাযেগের ক্ষেত্রে সড়ক পথ ব্যবহার করছে।

আর বেশি দূর্ঘটনাও হয় সেখানেও। কিভাবে সড়ক দূর্ঘটনা কমানো যায় সেই উদ্ভাবন আনবেন এই হ্যাকাথনের তরুণ মেধাবীরা।

স্যানিটেশন : ইউএনডিপির প্রতিবেদনে দেশের অপ্রতুল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছর ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়। ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন দিয়ে কমদামী ও নিরাপদ শৌচাগারের ডিজাইন করা হয়।

কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এছাড়া বিভিন্ন সময় এ নিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম তেমন সুফল পায়নি সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। জাতীয় এই সমস্যার ডিজিটাল সমাধানে কাজ করবেন প্রোগ্রামাররা।

সাইক্লোন সেন্টার ব্যবস্থাপনা : বাংলাদেশকে বলা হয় প্রাকৃতিক দূর্যোগের দেশ। সিডর, আইলরার মতো বড় দূর্যোগগুলো যেন নিয়মিত বিরতিতে আসতেই থাকে।

তাই দূর্যোগকালীন সময়ে মানুষকে আশ্রয় দেওয়া, সঠিকভাবে সাবার সাথে যোগাযোগ করা কিংবা ক্ষতি থেকে কিভাবে জাতীয় সম্পদকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে সমাধান চায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ বিষয়ে সহজ সমাধান বের করতে কাজ করেবেন হ্যাকাথনের কোডাররা।

সংক্রমণ হয় না এমন রোগ : ছেলে কিংবা মেয়ের এমন অনেক ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে যা তারা কাউকে বলতে পারে না। কিন্তু এটি নিয়ে তারা যন্ত্রণায় ভোগে। অনেক সময় তাদেরকে এসব কারণে বড় ধরনের অসুখে পড়তে হয়।

এ ছাড়া অনেক সময় যোগাযোগ ভীতির কারণেও হার্টের রোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস, কিডনি সম্যসার কবলে পড়তে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলতে না পারা বা সঠিক চিকিৎসার অভাবে ৬০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। এবার এ সমস্যার সমাধানেও কাজ করবেন প্রোগ্রামাররা।

নৌযান নিরাপত্তা : প্রতিবছর লঞ্চডুবিতে বাংলাদেশে হাজার হাজার লোক মারা যায়। বিশেষ করে উৎসব সময়গুলোতে এসব দূর্ঘটনা বেশি হতে দেখা যায়। কারণ অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ নৌযানের কারণে।

এ সমস্যা থেকে নদী এলাকার মানুষকে সমাধান দিতে নৌযান নিরাপত্তাতে উদ্ভাবন আনবেন ডেভেলপাররা।

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য : বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা তাদের যৌন এবং স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেনতন নয়। তারা পারিবারিক তথ্য ও পথ্য নিয়েই চলে।

এজন্য অনেককেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর ৩৯ লক্ষ মেয়ে গর্ভবতী হয় এবং এদের মধ্যে ১৩ লক্ষই দূর্ভোগের শিকার।

এছাড়া সন্তান জন্ম দেবার পর মাকেও অনেককে অবহেলা করতে দেখা যায়। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়েও এবারের হ্যাকথনে মোবাইলে সমাধান আনবেন প্রোগ্রামাররা।

Source: http://techshohor.com/news/25774

আরো পোস্ট দেখুন

comments