আপনি কি নিজেকে ৩০ বছর বয়স হবার আগেই একজন ধনী ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান?

আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত কোন একটি ভালো চাকরী খুঁজে পেতে প্রায় ৩০ বছর বয়সেরও বেশি সময় পার হয়ে যায় বললেই চলে। কিন্ত সেখানে যদি আপনি ৩০ বছর বয়সের মধ্যে একজন ধনী হয়ে যেতে চান তাহলে অসাধ্য বলতে পারেন খুব সহজেই। আবার অন্যদিকে বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেন বাবা/মামা/চাচার জোর যদি না থাকে তাহলে এটি কোন ভাবেই সম্ভব নয়। সত্যি বলতে আমি টা বিশ্বাস করি না এবং এমনটা ভাবা কতটা যুক্তিক আমার জানা নেই। আমাদের মাঝে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা সবাই একসাথে একের অধিক দিক চিন্তা ভাবনা করতে পারি না। আর এটাও ঠিক আমাদের মনের ভিতর যদি কোনো কিছু একবার ঢুকে যায় আর আমরা তার পিছনে ছুটে সময় অতিরিক্ত বেশি পার করে দিই । আর এই কাজটি করা উচিত নয় বলে আমরা বেশীরভাগ মানুষ এই কাজটি করি। সবকিছু বিবেচনা করে ভালো কোন দিক বুঝে, নিজের জন্য কোনটা ভালো হবে সেই দিকে পথে নামলেই কিন্তু এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে খুব সহজেই।

একজন ধনী ব্যক্তি
১) একটি লক্ষ্যকে নিয়ে সামনের দিকে হাটবেন না
বাংলাদেশে অনেকেই রয়েছেন যারা কিনা প্রতিনিয়তই সরকারী চাকুরীর পিছনে এক তরফাভাবে ছুটতে থাকেন বা একটি মাত্র লক্ষ্য ঠিক করে তা না পাওয়া পর্যন্ত সেই লক্ষ্যের পিছনে ছুটে চলতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষান্ত না হন। এই কাজটি করা থেকে নিজেকে বিরত। একটি মাত্র লক্ষ্যকে নিয়ে ছুটে চলবেন না। যেকোন একটি স্থানে নিজেকে আপাতত মানিয়ে নিয়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটতে পারেন। অর্থাৎ কোনো একটি চাকুরীতে নিজেকে যোগ করে নিয়ে তবে সরকারী কিংবা তার চেয়ে ভালো কোনো চাকরী খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যান।

২) চাকরির পাশাপাশি বিকল্প অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজুন
শুধুমাত্র নিজেকে একটি চাকুরীর জন্য বসে থেকে ভাববেন না আপনি খুব দ্রুত একজন ধনী ব্যক্তি হয়ে যাবেন। চাকরির পাশাপাশি চেষ্টা করুণ অন্য কিছু করতে। ছোটোখাটো কোনো রকমের ব্যবসা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। ব্যক্তিগত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বাড়িয়ে নিন ২২ বছরের পর থেকেই।

৩) ভুলে যাবেন না প্রতিটি অর্থের হিসাব রাখতে
কিভাবে কোথায়, কখন, কি অবস্থায়, কি কারণে কত পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন তার এ টু জেদ প্রত্যেকটির হিসাব রাখুন। হিসাব ছাড়া অর্থ ব্যয় করে কখনোই ভাববেন না ধনী হওয়া হওয়ার জন্যম আর তা আসলে কখনই সম্ভব নয়। হয়তো আশেপাশের মানুষেরা আপনাকে কিপটে বলতে পারেন। কিন্তু তারপরও নিজের সুন্দর আগামীর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটু টিটকারি মেনে নিন।

৪) অন্যর থেকে লোণ কিংবা ধার না করার চেষ্টা করুন
আপনার যদি পরিবার চালাতে গিয়ে প্রতি মাসেই ধার বা লোণ করে মাস আর করতে হয় তাহলে মনে রাখবেন আপনি কখনোই ব্যক্তিগত উপার্জনের কোন কিছুই রাখতে পারবেন না। অন্য দিকে যদি মাস শেষে কষ্টও হয় তাহলে একেবারে বিপদে না পড়লে লোণ বা ধার করার অভ্যাস গড়ে তোলা থেকে বিরত থাকুন। কারণ আমরা খুব সহজেই বলতে পারি যে, এটি এক প্রকার পিছুটান করার মতোই কাজ।

৫) সঠিক কোন স্থানে ইনভেস্ট করুন
কোথায়, কিভাবে, কি অবস্থায়, কোন ব্যবসায় ইনভেস্ট করতে পারলে ফলে এর লভ্যাংশের কিছু অংশ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং এই সব ব্যাপারে নিজেকে তৈরি শক্তভাবে তৈরি করুণ। নিজের জ্ঞান এবং বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক জায়গায়, সঠিক সময়ে ইনভেস্ট করার চেষ্টা করুন। এমন একটি স্থানে ইনভেস্ট করুন যাতে আপনাকে কোন অবস্থাতেই লসের মুখ দেখতে না হয়।

৬) একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করুন
২৫-৩০-৩৫-৪০ বছর টার্গেট রেখে এভাবে করে একটি একটি করে আপনার প্ল্যানগুলো সাজিয়ে এবং তা পূরণের সর্বদা চেষ্টা করুন। এক একটি বছর অনুযায়ী এক একটি মাইল ফলক এবং লক্ষ্য তৈরি করুন যাহাতে তা পূরণের ক্ষেত্রে আপনার জন্য সহজ হয়। কবে, কোথায়, কিভাবে কি করবেন আগেই নির্ধারণ করুন, চেষ্টা করুন সঞ্চয়ের পরে যে উপার্জনের যে অর্থ আপনার হাতে থাকবে সেই অর্থ নিয়ে চলার চেষ্টা করুন, খরচের পরে যা বাঁচবে তা সঞ্চয় করা থেকে বিরত থাকুন।

৭) যতটা সম্ভব সঞ্চয় করার চেষ্টা করুন
প্রতি মাসে চেষ্টা করুন যতোটা সম্ভব সঞ্চয়ের একটি অভ্যাস গড়ে তোলার। আপনি যদি একটু হিসাব করে ব্যয় করতে শুরু করেন, যদি সঞ্চয়ের অভ্যাস থাকে তাহলে সেই সঞ্চয় সঠিক কোন একটি জায়গায় ইনভেস্ট করে নিজেকে একজন ধনী ব্যক্তি হিসেবে করার লক্ষ্য পূরণ করতে আজই শুরু করে দিন।

৮) অপ্রয়োজনীয় কোন জিনিস কেনার পিছনে অর্থ ব্যয় করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন
অপ্রয়োজনীয় কিংবা অতিরিক্ত জিনিস কেনার অভ্যাস থাকলে তা দ্রুত দূর করে ফেলুন সম্পূর্ণভাবে। আপনাদের অনেকেরই একটা দামী ল্যাপটপ কিংবা দামী কোন মোবাইল বা অন্যান্য অনেক কিছু কেনার শখ থাকে। কিন্তু সেইসব কিছু নিয়ে পরে থাকলে কি চলবে? আপনার উন্নতির জন্য এখন এইসব কিছু বাদ দিয়ে কষ্ট করে এই ধরণের অপ্রয়োজনীয় এবং অযথা জিনিসগুলো কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন এবং দেখবেন এগুলো বাদ দিলেই তা আপনার ভবিষ্যতটাকেই উন্নত অনেক বেশি ভূমিকা পালন করবে।

আরো পোস্ট দেখুন

comments