ই-কমার্সের খুঁটিনাটি

“Branoo e-Commerce Writing Competition”

Branno.com হলো বাংলাদেশের ই-কমার্স সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সাইট। Branno.com থেকে খুব সহজেই ঘরে পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় সব কিছু। শুধুমাত্র  Branno.com ভিজিট করে আপনার পছন্দের পণ্যটি অর্ডার করতে হবে।

ecommerce_banners

ই-কমার্স নিয়ে এর আগে আমার কোনো আর্টিকেল লেখা হয়ে উঠেনি। তবে soucetune.com এবং ব্র্যানো ডট কম এর যৌথ উদ্যোগে যখন আর্টিকেল লেখার ইভেন্টটা দেখলাম তখন ভাবলাম কিছু না কিছু তো লেখাই যায়। আর সে জন্যই কয়েকদিন ই-কমার্স নিয়ে আমার অনেক স্টাডি করতে হয়েছে এবং ই-কমার্স সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হয়েছে এই লেখায়। যখন মনে হলো যে আমি অনেকটা স্টাডি করে ফেলেছি তখনই লিখতে বসলাম।
ই-কমার্সঃ ই-কমার্স শব্দটির ব্যাখ্যা করলে যা দাঁড়ায় তা হলো ইলেকট্রনিক কমার্স। আর অর্থ করলে দাঁড়ায় বৈদ্যুতিক বাণিজ্য। হাস্যকার বাংলা বলে ফেললাম। মূলত ই-কমার্স হচ্ছে কোনো বাণিজ্যের ইলেক্ট্রিকিকরন মানে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যের প্রসেসকে সহজীকরণ ও প্রসার বৃদ্ধি করা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি হচ্ছে ইন্টারনেট।
ই-কমার্সের ইতিহাসঃ একটা সময় ছিল যখন ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য জাহাজে করে বিভিন্ন দেশে নিয়ে বিক্রি করতেন। ঝড়ের কবলে পড়ে মাঝে মাঝেই তারা সর্বস্ব হারাতেন। কিন্তু ঐ যুগ আর নেই। এই কয়েকদিনের স্টাডিতে জানতে পারলাম ই-কমার্সের সূচনা হয় সত্তর দশকেই। তবে বর্তমান ই-কমার্সে পৌঁছাতে ৩০ বছর সময় লেগেছে এবং এই ত্রিশ বছরে ই-কমার্সের মানেটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। প্রথমদিকে, ই-কমার্স বলতে শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক লেনদেনের বিষয়টি বোঝানো হতো। ই-কমার্সের আরেকটি রূপ ছিল এয়ারলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেমের প্রবর্তন। জানা মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্যাবরে এবং যুক্তরাজ্যের ট্রাভিকম নামের দুটি প্রতিষ্ঠান এর প্রচলন ঘটায়। মিচেল আলদ্রিচ এর হাত ধরে ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে অনলাইন শপিং এর পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায়।
ই-কমার্স প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করেঃ প্রথমেই প্রয়োজন একটি ওয়েবসাইট। এই ধরনের সাইট কে ই-কমার্স সাইট বলে। ই-কমার্স সাইটে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্যের বিবরণ দেয়া থাকে। গ্রাহক একটি পণ্য কত দামে ক্রয় করতে পারবে তাও উল্লেখ করা থাকে। গ্রাহক পণ্যের ছবিতে ক্লিক করলেই সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পারে। শপিং কার্টের মাধ্যমে ক্রেতা তার পছন্দের পণ্যের অর্ডার দিয়ে থাকে এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতার ঘরে পন্যটি পৌঁছে দেয়। কিছু ই-কমার্স সাইট অর্ডার করার সাথে সাথেই কাস্টমারের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্যের মুল্য নিয়ে নেয় আবার কিছু কিছু সাইট ক্রেতার হাতে পণ্য পৌছার পর মূল্য নেয়। আবার হোম ডেলিভারীর ক্ষেত্রে কোনো কোনো সাইট সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ফি নেয়, কোনো কোনো সাইট ফি নেয় না। এ বিষয়টি পুরোপুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে।
ই-কমার্স- বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎঃ দিন দিন পৃথিবী উন্নত থেকে উন্নততর দেকে যাচ্ছে। এই উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিশ্বায়ন। আর বিশ্বায়নের পেছনে অবদান হলো ইন্টারনেটের। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রচলন ঘটছে খুবই দ্রুত। বাংলাদেশেও ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সাইট ই-কমার্স সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ব্র্যানো ডট কম, লামুদি ডট কম, এখনই ডট কম, ক্লিক বিডি ডট কম অন্যতম। সীমিত স্পিড এবং অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় ইন্টারনেটে সবাই ঘুরাঘুরি করতে পারে না। তবে যেহেতু ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে তাই আশা করা যায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও ই-কমার্স খুবই পরিচিত হয়ে উঠবে।
ই-কমার্স ব্যবসা করতে গেলেঃ আগেই বলেছি ই-কমার্স ব্যবসার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি ওয়েবসাইট। একটি ই-কমার্স সাইট তৈরির জন্য যে সব জিনিস খুবই প্রয়োজন সেগুলো হলোঃ
১। ডোমেইন
২। হোস্টিং
৩। অনলাইন শপিং কার্ট টুল ইত্যাদি।
এছাড়া অন্যান্য কনটেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করেও ই-কমার্স সাইট তৈরি করা যেতে পারে।
ওয়েবসাইট তৈরীর ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ে খেয়াল রাখা খুবই জরুরী-
• পণ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কালার স্কিম করা।
• পণ্যের ইনফো সাজানোগোছানো ও বিস্তারিত হতে হবে।
• পণ্য সাজানোর ক্ষেত্রে ক্যাটাগরীর দিকে খেয়াল রাখা।
• রিলেটেড পণ্যগুলো অটো অ্যারেঞ্জের ব্যবস্থা করা।
• এডভান্স সার্চ অপশন রাখা।
• কঞ্জিউমার পণ্য অর্ডার করার জন্য আপনার সাথে কন্টাক্ট করবে। তাই কন্টাক্ট ইনফোটা স্পষ্ট রাখতে হবে যাতে তারা কনফিউশনে না ভোগে।

খরচঃ ওয়েবসাইট তৈরী করতে ৪০০০-৫০০০ টাকা লাগবে এবং প্রতি বছর আপডেট করে নিতে হবে। মূল খরচ হলো পণ্য স্টোর করার ক্ষেত্রে। ভালো ব্যবসা করতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আপনার থাকতে হবে। ধরুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর পণ্যের ছবি দিলেন, কাস্টমার আপনাকে অর্ডারও দিল কিন্তু আপনার কাছে সেই পন্যগুলো নেই। তখন আপনি কি করবেন? কাস্টমারদের ঠিক সময়ে ডেলিভারী দিতে না পারায় তারা আপনার সাইটের উপর বিশ্বাস হারাবে এবং পরবর্তীতে আর অর্ডার করবে না। তাই পণ্য স্টোরেজ এর ক্ষেত্রে আপনার মোটামুটি ভালো বাজেট রাখতে হবে।
মার্কেটিংঃ শুধুমাত্র ওয়েবসাইট বানিয়ে রেখে দিলেই তো হবে না। সাইটের ভিজিটর বাড়াতে প্রচুর মার্কেটিং এর প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য সবচেয়ে ভালো প্রচার মাধ্যম হলো ফেইসবুক। তাই এই ব্যবসায় যারা আসতে চান বা ইতোমধ্যে চলে এসেছেন তাদের ফেইসবুককে কাজে লাগাতে হবে ভালোভাবে। তবে জেনে নেওয়া যাক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে জরুরী কিছু কথা-
• আপনার সাইটের নামে ফেইসবুকে একটা ফ্যান পেইজ খুলতে পারেন এবং নিয়মিত পন্যের আপডেটেড ছবিগুলো আপলোড করে দিতে পারেন।
• প্রত্যেকটি ছবির সাথে পণ্যের বিবরণ, মুল্য এবং লিঙ্ক দিয়ে দিন যে লিঙ্কে গিয়ে কাস্টমার পণ্যের অর্ডার করতে পারবে। এতে করে আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়বে এবং অর্ডারও পাবেন।
• ভালো ভালো ও সুপরিচিত সাইটগুলোতে আপানার সাইটের অ্যাড দিতে পারেন।
• আপনার পন্য সম্পর্কে কোনো কাস্টমারের ইতিবাচক মন্তব্যের স্ক্রিনশট ফেইসবুক পেইজে আপলোড করে দিতে পারেন। এতে আপনার সাইটের প্রতি সবাই বিশ্বাস রাখতে পারবে।
• পণ্য হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন গ্রাহকের পণ্য সহ ছবি আপলোড করে দিতে পারেন।
• একজন মার্কেটিং অফিসার নিয়োগ করুন যে আপনার সাইটের প্রচারণার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিবে এবং নিয়মিত আপনাকে অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবে।

আরো পোস্ট দেখুন

comments